দ্বিপ্রহরের পর বেশ কিছুটা সময় কেটে গেছে। কুমার তখনও স্নান বা দেবপূজা কিছুই সারেননি।
শিবিরে ফিরে কুমার রাজা সুরেন্দ্র সিং ও মহারাজ জয়সিংহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সিদ্ধনাথ যোগীর বার্তা পৌঁছে দিলেন। যোগী কেন বাকিদের ছেড়ে শুধু তাঁকেই একাকী ডেকে পাঠিয়েছিলেন, উভয়েই তা জানতে চাইলেন। কুমার যেমনটা সমীচীন মনে করলেন, তেমন উত্তর দিলেন। এরপর তাঁরা দুজনে নিজ নিজ শিবিরে ফিরে গিয়ে স্নান ও পূজা সেরে আহার গ্রহণ করলেন।
রাজা সুরেন্দ্র সিং এবং মহারাজ জয়সিংহ একান্তে বসে পরামর্শ করতে লাগলেন যে গুহার ভেতরে তাঁরা কাদের সঙ্গে নিয়ে যাবেন।
সুরেন্দ্র — যোগীবর সংবাদ পাঠিয়েছেন যে, আমরা কেবল তাঁদেরই সঙ্গে নিতে পারব, যাঁদের সামনে কুমারী আবির্ভূতা হতে পারেন।
জয়সিংহ — আপনি, আমি, কুমার আর তেজ সিং তো যাবই। বাকিদের মধ্যে আপনি যাঁকে চাইবেন, তাঁকেই সঙ্গে নেবেন।
সুরেন্দ্র — বেশি লোক সঙ্গে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু আইয়ারদের আসতেই হবে, কারণ তাঁদের কাছ থেকে কোনও রহস্যই গোপন থাকতে পারে না; বস্তুত, আইয়ারদের কাছে কিছু গোপন রাখাটা সমীচীন নয়।
জয়সিংহ — আপনি যথার্থ বলেছেন। এই আইয়ারদের ছাড়া আর কেউই আমাদের সঙ্গে ওই গুহার ভিতরে যাওয়ার উপযুক্ত নয়।
কথাবার্তা আর পরিকল্পনা সাজাতে সাজাতে দিনের সামান্যই আর বাকি রইল। সুরেন্দ্র সিং সেখানেই তেজ সিংকে ডেকে পাঠিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “এখান থেকে বাবার আস্তানায় যেতে কত সময় লাগে?”
তেজ সিং উত্তর দিলেন, “যদি অন্য কোথাও বিলম্ব না করে আমরা সোজা যাই, তবে পাঁচ-ছয় দণ্ডের মধ্যেই সেই উদ্যানে পৌঁছতে পারব যেখানে বাবাজি থাকেন। কিন্তু আমার মতে, এই সময়ে যাত্রা করা মোটেই সমীচীন হবে না, কারণ দিনের আলো প্রায় শেষ হয়ে এসেছে এবং ওই গুহার অভ্যন্তরে অত্যন্ত জটিল ও দুর্গম পথ। একবার অন্ধকার নেমে এলে আমরা এক পা-ও আর এগোতে পারব না।”
মহারাজ জয়সিংহ কুমারীকে এক ঝলক দেখার জন্য অধীর হয়ে উঠেছিলেন; কিন্তু এ যাত্রায় তাঁকে বাধ্য হয়েই তেজ সিংয়ের পরামর্শ মেনে নিতে হল। স্থির হল, পরদিন প্রত্যুষেই তাঁরা গুহায় প্রবেশ করবেন।
© 2026 Matribhasa Bangla. Public Domain
Comments (0)
Log in to join the conversation.