অবশেষে সেই দিনটি এসে গেল, যেদিন ঠিক মধ্যরাতে আফাত খানের বদরীনাথের কাটা মুণ্ডু নিয়ে রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করার কথা। সারা শহরে তুমুল শোরগোল। স্বয়ং মহারাজ জয়সিংহ সন্ধে থেকেই সব ব্যবস্থা ঠিকঠাক করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। প্রাসাদের ভেতরে বহুসংখ্যক বলিষ্ঠ, তেজস্বী ও লড়াকু যুবককে জড়ো করা হয়েছিল। দলের সকলের মেজাজ ছিল তুঙ্গে। মহারাজ হাতে খোলা তলোয়ার নিয়ে পায়চারি করতে করতে নিজের সৈন্যদের বীরত্বের প্রশংসা করছিলেন। তিনি বলছিলেন, “পরিচিত লোক ছাড়া আর যাকে যেখানে যখনই দেখবে, সঙ্গে সঙ্গে পাকড়াও করবে।” বীরপুরুষেরাও নিজেদের মধ্যে আস্ফালন করছিল—কে কাকে ধরবে, কে কাকে শেষ করবে! প্রাসাদের বাইরের ফটকে প্রহরা শিথিল করে দেওয়া হয়েছিল। কারণ মহারাজ পুরোপুরি নিশ্চিত ছিলেন যে, আফাত খান ভেতরে পা দেওয়া মাত্রই ধরা পড়বে। বাইরের প্রহরা আলগা থাকলে সে সাহসের সঙ্গে প্রাসাদে ঢুকতে আসবে, নইলে দু-তিনজন প্রহরীকে কেটেই চম্পট দেবে। প্রাসাদের ভেতরে এত বেশি আলো জ্বালানো হয়েছিল যে গোটা ইমারত দিনের আলোর মতো ঝলমল করছিল।
মধ্যরাত প্রায় উত্তীর্ণ, এমন সময় পূর্ব দিকের ছাদ থেকে ছয়জন লোক প্রচণ্ড শব্দ করে নিচে লাফিয়ে পড়ল। তারা এসে দাঁড়াল ঠিক সেই ভিড়ের মাঝখানে, যেখানে অসংখ্য যোদ্ধা বসে অথবা দাঁড়িয়ে ছিল। তাদের পুরোভাগে ছিল সেই আফাত খান। তার হাতে ঝুলছিল বদরীনাথের কাটা মুণ্ডু।
© 2026 Matribhasa Bangla. Public Domain
Comments (0)
Log in to join the conversation.