অবশেষে কুমার বীরেন্দ্র সিং তেজ সিংকে বললেন, “যোগীজি আঙুল দিয়ে তোমাকে কী ইশারা করলেন, কোথায় তোমার দৃষ্টি এতক্ষণ আটকে ছিল, তুমি কীই বা দেখছিলে, আর ওঁরা দুজনই বা কোথায় উধাও হয়ে গেলেন—আমি তার কিছুই বুঝতে পারলাম না।”
তেজ সিং: ওঁরা কোথায় গেলেন সে কথা আর কী বলব? তার কোনও সঠিক কিনারা করা গেল না। এখন এই বিষয়টা নিয়ে আমাদের খুব গভীরভাবে ভাবতে হবে।
বীরেন্দ্র: কিন্তু তুমি ওদিকে অমন করে কী দেখছিলে?
তেজ সিং: আমি কী দেখছিলাম, সে কথা বলতে গেলে অনেক সময় লাগবে, আর এখন এই মড়াগুলোর দুর্গন্ধে এখানে এক মুহূর্তও টেকা দায়। চলো, এগুলোকে এখানেই ফেলে রেখে আমরা এই তিলিস্ম থেকে বেরিয়ে যাই। বাইরে গিয়ে যা যা ঘটেছে সব তোমাকে খুলে বলব। কিন্তু এখান থেকে যাওয়ার আগে, যে জিনিসটা আমি এতক্ষণ অবাক হয়ে দেখছিলাম, সেটা একবার দেখে নাও। ঐ যে দুটো পাহাড়ের মাঝখানে এখন একটা দরজা খোলা দেখা যাচ্ছে—ওটা আগে বন্ধ ছিল, আর সেটাই হল আশ্চর্যের ব্যাপার। এখন চলো, কিন্তু কাল আমাদের আবার এখানে ফিরে আসতে হবে। এই তিলিস্মের গঠন এমন যে ভেতরের সুড়ঙ্গপথে এখানে আসতে মোটে পাঁচ ক্রোশ পথ পেরোতে হয়, অথচ বাইরের রাস্তা দিয়ে এই পাতালপুরীতে পৌঁছতে গেলে পাক্কা পনেরো ক্রোশ হাঁটতে হবে।
কুমার: বেশ, চলো তাহলে। কিন্তু সবটা না শোনা পর্যন্ত আমার মন শান্ত হবে না।
তিলিস্মের যে পথে ঐ চারজন এখানে এসে পৌঁছেছিল, সেই পথেই তারা এখন বাইরে বেরিয়ে গেল। যখন তারা বাইরে এল, তখন মধ্যরাত পেরিয়ে গেছে। তাদের শিবিরের লোকেরা অত্যন্ত চিন্তায় ছিল, কারণ এর আগে কুমার সবসময় সূর্যাস্তের এক প্রহর আগেই ফিরে আসতেন—আজ এত দেরি হল কেন? যখন তারা নিজেদের তাঁবুতে পৌঁছাল, তখন সকলের মনে স্বস্তি ফিরল। তেজ সিং কুমারকে বললেন, “এখন ঘুমিয়ে পড়ুন; যা বলার কাল বলব।”
© 2026 Matribhasa Bangla. Public Domain
Comments (0)
Log in to join the conversation.