Skip to content
Back to story
চন্দ্রকান্তা Matribhasa Bangla · নবম পরিচ্ছেদ
A fantasy-themed illustration for চন্দ্রকান্তা

নবম পরিচ্ছেদ

19.5K 2.8K 0

সভা ভঙ্গ হতে হতে মধ্যরাত পেরিয়ে গেল। ফতে সিং দেওয়ানজিকে নিজের তাঁবুতে নিয়ে গেলেন। তার কিছুক্ষণ পর তেজ সিং, দেবী সিং এবং জ্যোতিষী আবার কুমারের তাঁবুতে এসে একত্র হলেন। সেই প্রহরে এই চারজন ছাড়া সেখানে আর জনপ্রাণী ছিল না।

কুমার: তাহলে তেজ সিং, শেষ পর্যন্ত সেই বুড়ির কথাই সত্যি হল!

তেজ সিং: হ্যাঁ কুমার; কিন্তু মহারাজা শিবদত্তের চিঠি থেকে তো অন্যরকম কথাই মনে হচ্ছে।

দেবী সিং: উনি কী লিখবেন তার কোনও ঠিক নেই—কী জানি যদি কোনও ফাঁদ হয়?

জ্যোতিষী: এটা খুব সাবধানে বিবেচনা করার সময়। শিবদত্ত যতই ভালোমানুষি দেখান না কেন, শত্রুকে কখনও বিশ্বাস করতে নেই।

তেজ সিং: আপনি তো জ্যোতিষী—একটু গণনা করে বলুন তো, শিবদত্ত এই চিঠি সরল মনে লিখেছেন, নাকি এর ভেতরে কোনও ছলনা লুকিয়ে আছে?

জ্যোতিষী (কিছুক্ষণ চিন্তা করে): চিঠিটা উনি সরল মনেই লিখেছেন; কিন্তু তাঁর মন যে পরেও পরিষ্কার থাকবে, এটা বিশ্বাস করা যায় না।

তেজ সিং: আজকাল এমন সব কাণ্ড ঘটছে যে কোনও কিছুরই মাথামুণ্ডু বোঝা যাচ্ছে না। উনি যদি সরল মনেই চিঠি লিখে থাকেন, তাহলে তিনি কীভাবে ছাড়া পেলেন সেকথা খুলে বলেননি কেন?

জ্যোতিষী: তারও নিশ্চয়ই কোনও কারণ আছে।

কুমার: আপনি কি রমল ফেলে বলতে পারেন না তিনি কীভাবে ছাড়া পেলেন?

জ্যোতিষী: না কুমার; তিলিস্মের মধ্যে রমল কাজ করে না, আর মহারাজা শিবদত্ত যে কারাগারে বন্দি ছিলেন, সেটাও একটা তিলিস্ম।

তেজ সিং: কিচ্ছু বোঝা যাচ্ছে না!

দেবী সিং: আর ওই ডাইনিটা—সেও তো কোনও এলেবেলে ঐয়ার বলে মনে হচ্ছে না।

জ্যোতিষী: একেবারেই নয়। আমি ভেবে দেখেছি। ও তো ঐয়ারির নামগন্ধও জানে না।

কুমার: বেশ, দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়। কাল থেকে আমাদের মন দিয়ে তিলিস্ম ভাঙার কাজে লাগতে হবে।

তেজ সিং: হ্যাঁ, কাল তিলিস্মের কাজ শুরু করতেই হবে।

কুমার: ঠিক আছে—আপনারা এখন আসতে পারেন।

তিনজন ঐয়ার কুমারের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে নিজেদের আস্তানায় চলে গেলেন। পরের দিন কুমার বীরেন্দ্র সিং তিন ঐয়ারকে সঙ্গে নিয়ে তিলিস্মের ভেতর প্রবেশ করলেন। তিলিস্মের বই আর চাবিও সঙ্গে নিলেন। তাঁরা সেই ধ্বংসস্তূপের বারান্দায় পৌঁছে তলঘরের তালা খুললেন, পাথরের চাঁই সরালেন, এবং নিচের কক্ষে নেমে সেই পথ ধরে বাগানে পৌঁছলেন, যেখানে এর আগে তাঁরা খানিকটা মাটি খুঁড়েছিলেন।

সেখানে এসে তাঁরা আবার একসঙ্গে মাটি খোঁড়া শুরু করলেন। আট-নয় হাত গভীর খোঁড়ার পর একটা সিন্দুক বেরিয়ে এল, যার ডালা শক্ত করে বন্ধ ছিল, আর তালার মুখে তামার একটা পাতলা পাত লাগানো ছিল যাতে মাটি ভেতরে ঢুকতে না পারে।

কুমার সিন্দুকটা তুলে আনতে চাইলেন, কিন্তু পারলেন না। তাঁরা যতই চারপাশ থেকে মাটি সরাতে লাগলেন, সিন্দুকটা ততই নিচের দিকে চওড়া হতে লাগল। অনেক চেষ্টা করেও তাঁরা বুঝতে পারলেন না ওটা মাটির কতটা গভীরে প্রোথিত। শেষে বাধ্য হয়ে কুমার তিলিস্মের বইটা খুলে পড়তে শুরু করলেন। সেখানে লেখা ছিল—

“চাবির সঙ্গে একটা দড়ি বেঁধে সেটা বাগানের মধ্যে ঘোরাতে থাকো; এক জায়গায় চাবিটা মাটিতে আটকে যাবে। সেখানকার মাটি সরিয়ে চাবিটা তোলো, তারপর সেই জায়গাটা খুঁড়তে থাকো যতক্ষণ না একটা সিন্দুকের উপরিভাগ দেখতে পাও। ওপরের অংশ দেখা যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই খোঁড়া বন্ধ করে দিয়ো—কারণ ওটা আসলে কোনও সিন্দুক নয়, একটা দরজা। বাগানের ঠিক মাঝখানে একটা ফোয়ারা আছে; তার থেকে সাত হাত পূর্বে মাটি খোঁড়ো, তাহলে একটা পাত্র পাবে, আর তার মধ্যেই চাবিটা রাখা আছে। সেটা বের করে এনে ওই নিচের তলঘরের তালা খোলো; দেখবে সিঁড়ি বেরিয়ে আসবে, সেই সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে হবে।

ভেতরে এই তলঘরটা ঘুটঘুটে অন্ধকার আর ধোঁয়ায় ভরা থাকবে। সাবধান—কোনও আলো জ্বেলো না, কারণ সেই ধোঁয়ার সংস্পর্শে আগুন বা মশাল আসামাত্রই ধোঁয়া জ্বলে উঠবে, আর ভয়ানক হট্টগোল শুরু হয়ে যাবে, তোমাদের প্রাণ বাঁচানো মুশকিল হবে। মুখে কাপড় জড়িয়ে নিচে নামবে; হাতড়ে হাতড়ে পথ চিনে নেবে, আর যে পথই সামনে খুলবে, তাড়াতাড়ি তার মধ্যে দিয়ে এগিয়ে যাবে, নইলে ধোঁয়া নাক দিয়ে মস্তিষ্কে ঢুকে যেতে পারে। কিছুটা এগোলেই একটা ঝকঝকে ঘর দেখতে পাবে, যেখানে সবকিছু স্পষ্ট দেখা যাবে। সেই ঘরের মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত তার বাঁধা থাকবে। খোঁজাখুঁজির কোনও দরকার নেই। নিজের তলোয়ার দিয়ে দ্রুত সেই তারগুলো কেটে ফেলবে, আর সঙ্গে সঙ্গে বাইরে বেরিয়ে আসবে।”

কুমার পড়া থামালেন। নির্দেশমতো তাঁরা মাঝখানের ফোয়ারা থেকে সাত হাত পূর্বে মাটি খুঁড়লেন; একটা পাত্র বেরিয়ে এল, তার ভেতর থেকে চাবিটা বের করে তলঘরের মুখের তালা খোলা হল। দেবী সিং বললেন, “এবার মুখে কাপড় জড়িয়ে নিন। তিলিস্ম কোনও ছেলেখেলা নয়—এখানে জীবনের ঝুঁকি। আলো জ্বালানো চলবে না; অন্ধকারে হাতড়ে এগোতে হবে; চোখ খোলা রেখেও অন্ধের মতো চলতে হবে, আর তাড়াতাড়ি করতে হবে, যাতে ধোঁয়া মাথায় না চড়ে যায়!”

তাঁর কথা শুনে কুমার হাসলেন। তাঁরা সবাই মুখে কাপড় বেঁধে ভেতরে ঢুকলেন এবং সেই উজ্জ্বল ঘরে পৌঁছলেন। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তারগুলো কেটে তাঁরা তলঘর থেকে বেরিয়ে এলেন।

মুখে কাপড় বাঁধা সত্ত্বেও সামান্য ধোঁয়া তাঁদের মস্তিষ্কে ঢুকে গিয়েছিল, আর তাতে চারজনেরই কেমন একটা ঘোর এসে গেল। তলঘরের বাইরে তাঁরা দু-ঘণ্টা ধরে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে রইলেন। যখন জ্ঞান ফিরল, তেজ সিং জ্যোতিষীকে জিজ্ঞেস করলেন, “এখনও দিনের কতটা বাকি আছে?” তিনি উত্তর দিলেন, “ঘণ্টা চারেক।”

কুমার বললেন, “এখন আর এগোনোর সময় নেই। এক ঘণ্টায় আর কী হবে?” জ্যোতিষীও সায় দিলেন। সুতরাং চারজন বাগান ছেড়ে, সেই কক্ষ ও তলঘরের পথ দিয়ে ফিরে এসে ধ্বংসস্তূপের বারান্দায় পৌঁছলেন। আগের মতোই তাঁরা তলঘরের মুখে পাথরের চাঁইটা রেখে তালা লাগিয়ে দিলেন, তারপর ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে নিজেদের তাঁবুতে ফিরে এলেন।

কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার পর কুমারের ইচ্ছে হল জঙ্গলে গিয়ে কিছুক্ষণ হাওয়া খেয়ে আসবেন। তিনি তেজ সিংকে বলতেই তিনি সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হয়ে গেলেন, আর কুমার তিন ঐয়ারকে সঙ্গে নিয়ে শিবিরের বাইরে গেলেন। কুমার ঘোড়ায় চড়লেন, তিন ঐয়ার পায়ে হেঁটে চললেন।

কুমার ধীরে ধীরে এগোচ্ছিলেন। তাঁরা বড়জোর এক ক্রোশ পথ গেছেন, এমন সময় একটা মোটা শালগাছের গুঁড়িতে একটা কাগজ সাঁটা দেখতে পেলেন, তাতে কিছু লেখা রয়েছে। তেজ সিং বললেন, “দেখুন তো—এটা কীসের কাগজ সাঁটা, আর কী লেখা আছে ওতে?” একথা শুনে দেবী সিং গাছের কাছে গিয়ে কাগজটা পড়লেন। তাতে লেখা ছিল—

“কেমন, এবার বুঝলে তো আমি কী জিনিস! আমি বলেছিলাম আমাকে বিয়ে করো, আমি এক ঘণ্টার মধ্যে তোমাকে তিলিস্ম ভেঙে চন্দ্রকান্তার সঙ্গে দেখা করার উপায় বলে দেব। কিন্তু তুমি রাজি হলে না, তাই আমি রেগে গিয়ে মহারাজা শিবদত্তকে ছাড়িয়ে দিয়েছি। এখন কী করবে? আমাকে বিয়ে করবে কি না? যদি রাজি থাকো, তাহলে উত্তর লিখে এই গাছেই সাঁটিয়ে দিয়ো; আমি তৎক্ষণাৎ তোমার কাছে চলে আসব। আর যদি রাজি না হও, তাহলে সোজাসুজি জবাব দিয়ো। এবার আমি চন্দ্রকান্তা আর চপলার প্রাণ নিয়ে নিজের বুক জুড়োব। তিলিস্মের ভেতর যেতে আমার আর কতক্ষণ লাগে? আমি দিনে তেরোবার ওর ভেতরে যাওয়া-আসা করতে পারি। নিজের ভালো আর আমার যৌবনের কথা ভাবো। আমার সামনে তোমাদের ঐয়ারদের ঐয়ারি কিছুই নয়। সেদিন দেবী সিং আমার পিছু নিয়েছিল—কিন্তু কী করতে পারল? কথা শোনো—কথা শোনো—জেদ কোরো না। আমার কথাতেই শিবদত্ত তোমাদের বন্ধু হয়েছে। এখনও বুদ্ধি খরচ করো!

—তোমার সুরজমূখী।”

এটা পড়ে দেবী সিং বাকিদের ইশারা করে ডাকলেন এবং বললেন, “আপনারাও এটা পড়ুন।” যখন তাঁরা শেষে “সুরজমূখী” শব্দটা পড়লেন, তখন না হেসে পারলেন না। কুমার বললেন, “দেখো, ডাইনিটা নিজের কী মিষ্টি নাম রেখেছে।” তেজ সিং জ্যোতিষীকে বললেন, “দেখুন তো, এসব কী!”

জ্যোতিষী উত্তর দিলেন, “যাই হোক না কেন—আমি আপনাকে স্পষ্ট বলছি, এই ডাইনি কুমারের কোনও ক্ষতি করতে পারবে না। এই লেখার দিকে কান দেবেন না।”

কুমার বললেন, “আপনার কথা সত্যি; কিন্তু ও যা বলে, তাই করে।” এই বলে তিনি এগিয়ে গেলেন। ঘুরতে ঘুরতে আরও বেশ কয়েকটা গাছে একইরকম কাগজ সাঁটা দেখতে পেলেন তাঁরা। জ্যোতিষী যতই ভরসা দিন না কেন, কুমারের মন শান্ত হল না; তিনি বিষণ্ণ মনে শিবিরে ফিরে এলেন এবং তিন ঐয়ারকে নিয়ে নিজের তাঁবুতে ঢুকলেন।

কিছুক্ষণ এই সুরজমূখীকে নিয়েই কথাবার্তা চলল। রাত এক প্রহর গড়িয়ে গেলে তেজ সিং কুমারকে বললেন, “আমরা এখন একবার টহল দিয়ে আসি; হয়তো নতুন কোনও খবর পেতে পারি।” এই বলে তেজ সিং, দেবী সিং ও জ্যোতিষী বিদায় নিয়ে পাহারায় বেরোলেন। কুমার সামান্য কিছু খেয়ে নিজের বিছানায় শুয়ে পড়লেন। কিন্তু তাঁর চোখে ঘুম কোথায়? শুয়ে শুয়ে চন্দ্রকান্তার অসহায় অবস্থা, বনকন্যার জন্য আকুলতা, আর ওই বুড়ি ডাইনিটার দুষ্টুমির কথা ভাবতে ভাবতে অর্ধেকের বেশি রাত কেটে গেল। ঠিক সেই সময় তাঁবুতে কারও ঢোকার শব্দ হল। তিনি দরজার দিকে তাকালেন—তেজ সিং এসেছেন। কুমার বললেন, “কী তেজ সিং—কোনও নতুন খবর?”

তেজ সিং: হ্যাঁ কুমার; একটা দারুণ জিনিস হাতে এসেছে!

কুমার: কী জিনিস? কোথায়? দেখি।

তেজ সিং: তাঁবুর বাইরে আসুন, দেখাচ্ছি।

কুমার: চলো।

কুমার বীরেন্দ্র সিং তেজ সিংয়ের পিছু পিছু তাঁবুর বাইরে এলেন। কিছুটা দূরে তিনি আলোর আভা আর অনেক লোকের জটলা দেখতে পেলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “এত ভিড় কিসের?” তেজ সিং বললেন, “এসে দেখুন—খুব আনন্দের ব্যাপার!”

কুমার কাছে আসতেই ভিড়টা সরে গেল। বেশ কয়েকটা মশাল জ্বলছিল, আর তার আলোয় কুমার দেখলেন ক্রূর সিংয়ের রক্তমাখা দেহ পড়ে আছে, তার বুকে একেবারে ফলা পর্যন্ত গাঁথা একটা ছোরা। কুমার তেজ সিংকে বললেন, “তাহলে তেজ সিং—শেষ পর্যন্ত তুমিই ওকে খতম করলে।”

তেজ সিং: আমরা কি এমন লোক যে হঠাৎ করে এভাবে কাউকে মেরে ফেলব?

কুমার: তাহলে ওকে কে মেরেছে?

তেজ সিং: আমি কী করে জানব?

কুমার: তাহলে লাশটা কোথা থেকে আনলে?

তেজ সিং: আমরা তিনজন টহল দিতে দিতে এই তিলিস্মি ধ্বংসস্তূপের পেছন দিকে গিয়েছিলাম। দূর থেকে দেখলাম তিন-চারজন লোক দাঁড়িয়ে আছে। আমরা পৌঁছনোর আগেই ওরা সবাই পালিয়ে গেল। আমরা কাছে গিয়ে দেখি ক্রূরের লাশ পড়ে আছে। তখন আমি দেবী সিংকে পাঠিয়ে এখান থেকে একটা পালকি আর বেয়ারা আনিয়েছি, আর লাশটা যেমন পড়েছিল, তেমনই তুলে এনেছি। ও এখনও মরেনি—শরীরটা গরম আছে—কিন্তু বাঁচবে না।

কুমার: এ তো বড়ই অদ্ভুত ব্যাপার! ওকে কে মারল? এসো তো—ওর বুকে যে ছোরাটা গাঁথা আছে, ওটা বের করো।

তেজ সিং ছোরাটা বের করে জল দিয়ে ধুয়ে কুমারের কাছে নিয়ে এলেন। মশালের আলোয় তিনি ছোরার বাঁটের দিকে তাকিয়ে দেখলেন তাতে কিছু খোদাই করা আছে। ভালো করে দেখতেই চোখে পড়ল, তাতে সরু অক্ষরে “চপলা” নামটা খোদাই করা আছে। তেজ সিং অবাক হয়ে বললেন, “দেখুন—চপলা নামটা খোদাই করা আছে; আর এই ছোরাটা আমি খুব ভালো করে চিনি—এটা সবসময় চপলার কোমরে গোঁজা থাকত। কিন্তু এটা এখানে এল কী করে? চপলা কি ওকে মেরেছে?”

দেবী সিং: বেচারি চপলা তো রাজকুমারী চন্দ্রকান্তার পাশে গুহার মধ্যে বসে আছে, যেখানে একটা প্রদীপও জ্বলার কথা নয়।

কুমার: তাহলে সেখান থেকে এই ছোরাটা কে আনল?

তেজ সিং: আরও একটা কথা ভাবার আছে—ক্রূর সিং এখানে এল কেন? ও তো মহারাজা শিবদত্তের সঙ্গে ছিল, আর শিবদত্তের নিজের দেওয়ান এখানে আমাদের অতিথি হয়ে আছেন, আর বলছেন যে মহারাজা আপনাদের সঙ্গে আর শত্রুতা রাখবেন না।

কুমার: মহারাজা শিবদত্তের দেওয়ানকে খবর পাঠিয়ে ডাকুন।

তেজ সিং দেবী সিংকে বললেন নিজে গিয়ে তাঁকে নিয়ে আসতে। দেবী সিং গিয়ে তাঁকে ঘুম থেকে তুলে কুমারের তলব জানালেন, আর বেচারা খুব ভয় পেয়ে তাড়াতাড়ি চলে এলেন। ফতে সিংও সেই জায়গায় এসে পৌঁছলেন। ক্রূর সিংয়ের দেহ দেখামাত্রই দেওয়ানজি বলে উঠলেন, “বেশ হয়েছে—পাজিটা নিজের পাপের ফল পেয়েছে। কিন্তু ওর সঙ্গী আহমেদ আর নাদিম এখনও বেঁচে আছে; ওদেরও যদি এই দশা হত—তাহলে আমার বুক জুড়োত।” কুমার জিজ্ঞেস করলেন, “ওরা কি আর আপনাদের সঙ্গে নেই?”

দেওয়ানজি উত্তর দিলেন, “না কুমার। যেদিন মহারাজা কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে হুকুম দিলেন যে তাঁর রাজ্যের কেউ কুমারের সঙ্গে শত্রুতা করবে না, সেদিনই ক্রূর সিং তার পরিবার আর নাদিম ও আহমেদকে নিয়ে চুনার থেকে পালিয়েছিল। মহারাজা পরে খোঁজ করিয়েছিলেন, কিন্তু তার কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।”

দেখতে দেখতেই ক্রূর সিং তিন-চারবার হেঁচকি তুলে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করল। কুমার তেজ সিংকে বললেন, “এখন তো ও মরেই গেছে—এর সৎকারের ব্যবস্থা করো, আর ছোরাটা তুমি নিজের কাছে রাখো; সকালে এটা নিয়ে ভাবা যাবে।” তেজ সিং দেহটা সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করলেন, আর সকলে নিজের নিজের তাঁবুতে ফিরে গেলেন।

0 Next
Continue to next part Up next দশম পরিচ্ছেদ
Previous part

Recommended for you

Comments (0)

Log in to join the conversation.