পথেই কেটে গেল চার-চারটে দিন। পঞ্চম দিনে বিশাল সেনাবাহিনী এসে পৌঁছাল চুনারের উপকণ্ঠে।
মহারাজা শিবদত্তের দেওয়ান এই খবর পেয়ে একেবারে হতাশ হয়ে পড়লেন। মহারাজা শিবদত্ত স্বয়ং যখন বন্দী, তখন যুদ্ধ করবার মতো আর কেই বা রইল? প্রচুর নজরানা ও ভেট সংগ্রহ করে তিনি মহারাজা জয়সিংহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলেন। খবর পেয়ে মহারাজা প্রত্যুত্তরে জানালেন, ‘সাক্ষাতের কোনও প্রয়োজন নেই। আমরা চুনার বিজয় করতে আসিনি। তোমাদের মহারাজা যেদিন আমাদের হাতে বন্দী হয়েছেন, সেই দিনই চুনার আমাদের অধিকারে এসে গেছে। আমরা এসেছি অন্য এক বিশেষ কাজে। এ নিয়ে আপনি আর অহেতুক দুশ্চিন্তা করবেন না।’
নিরুপায় হয়ে দেওয়ান ফিরতে বাধ্য হলেন। তবে এটুকু পরিষ্কার হয়ে গেল যে, এই বিশাল বাহিনী কোনও সাধারণ কারণে আসেনি, এর পিছনে কোনও বিশেষ উদ্দেশ্য রয়েছে।
আজ পর্যন্ত এই তিলিস্মের অস্তিত্বের কথা কারও জানা ছিল না। শুধু তাই নয়, ওই ধ্বংসস্তূপের দিকে আজ পর্যন্ত কেউ চোখ তুলে দেখেওনি। কিন্তু এখন দিকে দিকে এই জনরব ছড়িয়ে পড়ল যে, এই এলাকাতেই এক বিশাল তিলিস্ম রয়েছে এবং কুমার বীরেন্দ্র সিং সেই তিলিস্ম ভেদ করতেই এসেছেন। সেই মায়াবী ধ্বংসস্তূপের অবস্থান খুঁজে বের করার জন্য দিকে দিকে বহু গুপ্তচর পাঠানো হলো। তেজ সিং আর জ্যোতিষী মশাইও অনুসন্ধানে বের হলেন।
অবশেষে সেই জায়গার সন্ধান পাওয়া গেল।
পরের দিন সেই মায়াবী ধ্বংসস্তূপ যে জঙ্গলের মধ্যে অবস্থিত, সেখানেই সমস্ত সেনাবাহিনীসমেত শিবির স্থাপন করা হলো।
© 2026 Matribhasa Bangla. Public Domain
Comments (0)
Log in to join the conversation.