Skip to content
Back to story
আনন্দমঠ Matribhasa Bangla · তৃতীয় খণ্ড — সপ্তম পরিচ্ছেদ
A historical fiction-themed illustration for আনন্দমঠ

তৃতীয় খণ্ড — সপ্তম পরিচ্ছেদ

10.6K 1.3K 0

জীবানন্দ কুটীর হইতে বাহির হইয়া গেলে পর, শান্তিদেবী আবার সারঙ্গ লইয়া মৃদু মৃদু রবে গীত করিতে লাগিলেন, -

“প্রলয়পয়োধিজলে ধৃতবানসি বেদম্

বিহিতবহিত্রচরিত্রখেদম্

কেশব ধৃতমীনশরীর

জয় জগদীশ হরে |”

গোস্বামীবিরচিত মধুর স্তোত্র যখন শান্তিদেবীকণ্ঠনি:সৃত হইয়া, রাগ-তাল-লয়-সম্পূর্ণ হইয়া, সেই অনন্ত কাননের অনন্ত নীরবতা বিদীর্ণ করিয়া, পূর্ণ জলোচ্ছ্বাসের সময়ে বসন্তানিলতাড়িত তরঙ্গভঙ্গের ন্যায় মধুর হইয়া আসিল, তখন তিনি গায়িলেন–

“নিন্দসি যজ্ঞবিধেরহহ শ্রুতিজাতম্

সদয়-হৃদয়-দর্শিতপশুঘাতম্

কেশব ধৃতবুদ্ধশরীর

জয় জগদীশ হরে |”

তখন বাহির হইতে কে অতি গম্ভীর রবে গায়িল, গম্ভীর মেঘগর্জনবৎ তানে গায়িল, -

“ম্লেচ্ছনিবহনিধনে কলয়সি করবালম্

ধূমকেতুমিব কিমপি করালম্

কেশব ধৃতকল্কিশরীর

জয় জগদীশ হরে |”

শান্তি ভক্তিভাবে প্রণত হইয়া সত্যানন্দের পদধূলি গ্রহণ করিল ; বলিল, “প্রভো, আমি এমন কি ভাগ্য করিয়াছি যে, আপনার শ্রীপাদপদ্ম এখানে দর্শন পাই – আজ্ঞা করুন, আমাকে কি করিতে হইবে |” বলিয়া সারঙ্গে সুর দিয়া শান্তি আবার গাইল,-

“তব চরণপ্রণতা বয়মিতি ভাবয় কুরু কুশলং প্রণতেষু |”

সত্যানন্দ বলিলেন, “মা, তোমার কুশলই হইবে |”

শা। কিসে ঠাকুর – তোমার ত আজ্ঞা আছে আমার বৈধব্য!

স। তোমারে আমি চিনিতাম না। মা! দড়ির জোর না বুঝিয়া আমি জেয়াদা টানিয়াছি, তুমি আমার অপেক্ষা জ্ঞানী, ইহার উপায় তুমি কর, জীবানন্দকে বলিও না যে, আমি সকল জানি। তোমার প্রলোভনে তিনি জীবন রক্ষা করিতে পারেন, এতদিন করিতেছেন। তাহা হইলে আমার কার্যোদ্ধার হইতে পারে।

সেই বিশাল নীল উৎফুল্ল লোচনে নিদাঘকাদম্বিনীবিরাজিত বিদ্যুত্তুল্য ঘোর রোষকটাক্ষ হইল। শান্তি বলিল, “কি ঠাকুর! আমি আর আমার স্বামী এক আত্মা, যাহা যাহা তোমার সঙ্গে কথোপকথন হইল, সবই বলিব। মরিতে হয় তিনি মরিবেন, আমার ক্ষতি কি? আমি ত সঙ্গে সঙ্গে মরিব। তাঁর স্বর্গ আছে, মনে কর কি, আমার স্বর্গ নাই?”

0 Next
Continue to next part Up next তৃতীয় খণ্ড — অষ্টম পরিচ্ছেদ
Previous part

Recommended for you

Comments (0)

Log in to join the conversation.