Skip to content
Back to story
কপালকুণ্ডলা Matribhasa Bangla · তৃতীয় খণ্ড — দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ : পথান্তরে
A romance-themed illustration for কপালকুণ্ডলা

তৃতীয় খণ্ড — দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ : পথান্তরে

5.3K 957 0

“যে মাটিতে পড়ে লোকে উঠে তাই ধরে

বারেক নিরাশ হয়ে কে কোথায় মরে ||

তুফানে পতিত কিন্তু ছাড়িব না হাল।

আজিকে বিফলা হলো, হতে পারে কাল |”

নবীন তপস্বিনী

যে দিন নবকুমারকে বিদায় করিয়া মতিবিবি বা লুৎফ-উন্নিসা বর্ধমানাভিমুখে যাত্রা করিলেন, সে দিন তিনি বর্ধমান পর্যন্ত যাইতে পারিলেন না। অন্য চটিতে রহিলেন। সন্ধ্যার সময়ে পেষমনের সহিত একত্রে বসিয়া কথোপকথন হইতেছিল, এমতকালে মতি সহসা পেষমনকে জিজ্ঞাসা করিলেন,

“পেষমন্! আমার স্বামীকে কেমন দেখিলে?”

পেষমন্ কিছু বিস্মিত হইয়া কহিল, “কেমন আর দেখিব?” মতি কহিলেন, “সুন্দর পুরুষ বটে কি না?”

নবকুমারের প্রতি পেষমনের বিরাগ জন্মিয়াছিল। যে অলঙ্কারগুলি মতি কপালকুণ্ডলাকে দিয়াছিলেন, তৎপ্রতি পেষ্মেনের বিশেষ লোভ ছিল; মনে মনে ভরসা ছিল, একদিন চাহিয়া লইবেন। সেই আশা নির্মুল হইয়াছিল, সুতরাং কপালকুণ্ডলা এবং তাঁহার স্বামী, উভয়ের প্রতি তাঁহার দারুণ বিরক্তি। অতএব স্বামিনীর প্রশ্নে উত্তর করিলেন,

“দরিদ্র ব্রাহ্মণ আবার সুন্দর কুৎসিৎ কি?”

সহচরীর মনের ভাব বুঝিয়া মতি হাস্য করিয়া কহিলেন, “দরিদ্র ব্রাহ্মণ যদি ওমরাহ হয়, তবে সুন্দর পুরুষ হইবে কি না?”

পে। সে আবার কি?

ম। কেন, তুমি জান না যে, বেগম স্বীকার করিয়াছেন যে, খস্রু বাদশাহ হইলে আমার স্বামী ওমরাহ হইবে?

পে। তা ত জানি। কিন্তু তোমার পূর্বস্বামী ওমরাহ হইবেন কেন?

ম। তবে আমার আর কোন্ স্বামী আছে?

পে। যিনি নুতন হইবেন।

মতি ঈষৎ হাসিয়া কহিলেন, “আমার ন্যায় সতীর দুই স্বামী, বড় অন্যায় কথা–ও কে যাইতেছে?”

যাহাকে দেখিয়া মতি কহিলেন, “ও কে যাইতেছে?” পেষমন্ তাহাকে চিনিল; সে আগ্রানিবাসী, খাঁ আজিমের আশ্রিত ব্যক্তি। উভয়ে ব্যস্ত হইলেন। পেষমন্ তাহাকে ডাকিলেন। সে ব্যক্তি আসিয়া লুৎফ-উন্নিসাকে অভাবাদনপূর্বক একখানি পত্র দান করিল; কহিল,

“পত্র লইয়া উড়িষ্যা যাইতেছিলাম। পত্র জরুরি |”

পত্র পড়িয়া মতিবিবির আশা ভরসা সকল অন্তর্হিত হইল। পত্রের মর্ম এই,

“আমাদিগের যত্ন বিফল হইয়াছে। মৃত্যুকালেও আকবরশাহ আপন বুদ্ধিবলে আমাদিগকে পরাভূত করিয়াছেন। তাঁহার পরলোকে গতি হইয়াছে। তাঁহার আজ্ঞাবলে, কুমার সেলিম এক্ষণে জাহাঁগীর শাহ হইয়াছেন। তুমি খস্রুর জন্য ব্যস্ত হইবে না। এই উপলক্ষে কেহ তোমার শত্রুতা সাধিতে না পারে, এমত চেষ্টার জন্য তুমি শীঘ্র আগ্রায় ফিরিয়া আসিবে |”

আকবরশাহ যে প্রকারে এ ষড়্য ন্ত্র নিষ্ফল করেন, তাহা ইতিহাসে বর্ণিত আছে; এ স্থলে সে বিবরণের আবশ্যকতা নাই।

0 Next
Continue to next part Up next তৃতীয় খণ্ড — তৃতীয় পরিচ্ছেদ : প্রতিযোগিনী-গৃহে
Previous part

Recommended for you

Comments (0)

Log in to join the conversation.